
বাংলাদেশ ডেস্ক : ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার সাদেকপুর এলাকায় ডাকুয়া নদীতে কৃষি খামারের বর্জ্য ও ময়লা-আবর্জনা ফেলার অভিযোগ উঠেছে তিশা এ্যান্ড তানিশা এগ্রো ফার্মের বিরুদ্ধে।
এতে নদীর পানি দূষিত হওয়ার পাশাপাশি আশপাশের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সরেজমিনে দেখা যায়, কাঁচেরকোল ইউনিয়নের সাদেকপুর এলাকায় তিশা এন্ড তানিশা এগ্রো ফার্ম নামে একটি বড় গবাদিপশুর খামারে গরু পালন এবং পৃথক স্থানে বিপুলসংখ্যক মুরগি পালন করা হচ্ছে। খামারের অর্ধশত গরুর গবর ও হাজারো পল্ট্রি মুরগির বিষ্ঠা মাটির নিচ দিয়ে পাইপ ড্রেনের মাধ্যমে ডাকুয়া নদীতে ফেলা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, খামারের বর্জ্য নদী ও নদীর তীরবর্তী স্থানে ফেলা হলে বর্ষা ও বৃষ্টির পানির সঙ্গে সেগুলো নদীতে গিয়ে মিশে যাচ্ছে। এতে ডাকুয়া নদীর পানি দূষিত হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছসহ জলজ প্রাণীর ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়তে পড়ছে।
তারা আরও বলেন, নদীটি স্থানীয় কৃষি ও জীববৈচিত্র্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় দুই বছর তারা নদীতে গোসল, কাপড় পরিস্কার ও বাসন পরিস্কার বাধ্য হয়ে বন্ধ করে দিয়েছেন।
তাই নদীতে যেকোনো ধরনের বর্জ্য ফেলা বন্ধ করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঠিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের নজরে এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে নদীতে বর্জ্য ফেলার অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং পরিবেশ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হোক।
নদীতে খামারের বর্জ্য ফেলার বিষয়টি স্বীকার করে তিশা এ্যান্ড তানিশা এগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী মিজানুর রহমান বলেন, খামারের পাশে একটি জমি কেনা হয়েছে। সেখানে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন করে গরুর গোবর ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মুরগির বিষ্ঠা নির্দিষ্ট স্থানে গর্ত করে তা পুঁতে রাখা হবে। ভবিষ্যতে যাতে খামারের কোনো বর্জ্য নদীতে না যায়, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ডাকুয়া নদীর পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে আশপাশের সকলকেই নদীতে বর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে হবে বলে জানান।