
স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট একটি ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সংঘটিত রাজনৈতিক পটপরিবর্তনকে সাধারণ মানুষের অধিকার, গণতন্ত্র ও মুক্তির সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও বেলজিয়াম বিএনপির সভাপতি সাইদুর রহমান লিটল।
তিনি বলেন, “৫ আগস্ট শুধু একটি তারিখ নয়, এটি ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ, সাহস ও ঐক্যের মাধ্যমে অর্জিত একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। এই বিজয় রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে। তাই শহীদদের আত্মত্যাগ জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।”
তিনি আরও বলেন, বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গঠনের জন্য ৫ আগস্টের চেতনাকে ধারণ করতে হবে এবং শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
সাইদুর রহমান লিটল দাবি করেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তিনি বলেন, ছাত্র, যুবক, কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণে আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয় এবং অনেক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ জীবন উৎসর্গ করেন।
দেবিদ্বারে ৪ ও ৫ আগস্টের রক্তক্ষয়ী ঘটনা
২০২৪ সালের ৪ ও ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলাও সংঘর্ষের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। ৪ আগস্ট দেবিদ্বারের আজগর আলী বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও বারেরা নিউমার্কেট এলাকায় সংঘর্ষে আব্দুর রাজ্জাক বাদশা রুবেল গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। পরদিন ৫ আগস্ট দেবিদ্বার বাজারে ছাত্র-জনতার বিজয় মিছিল চলাকালে পুলিশ ও তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে বহু আন্দোলনকারী ও সাধারণ মানুষ গুলিবিদ্ধ ও আহত হন।
আহতদের মধ্যে ধামতী এলাকার আব্দুস সামাদ দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মৃত্যুবরণ করেন। বিভিন্ন সময়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও কয়েকজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে দেবিদ্বার উপজেলার অন্তত ১২ জন বাসিন্দা শহীদ হন।
দেবিদ্বারের শহীদদের স্মরণ
গণঅভ্যুত্থানে দেবিদ্বার উপজেলার যাঁদের শহীদ হিসেবে স্মরণ করা হয়, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন—আব্দুর রাজ্জাক বাদশা রুবেল, আমিনুল ইসলাম সাব্বির, আব্দুস সামাদ, ফয়সাল সরকার, সাগর মিয়া, হোসাইন মিয়া, কাদির হোসেন সোহাগ, জহিরুল ইসলাম রাসেল, রবিন মিয়া, রায়হান রাব্বি, সাইফুল ইসলাম তন্ময় ও নাজমুল হাসান।
স্মরণে শহীদরা
প্রতি বছর ৪ ও ৫ আগস্ট দেবিদ্বারে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে শহীদদের স্মরণে দোয়া মাহফিল, আলোচনা সভা, পুষ্পস্তবক অর্পণ ও স্মৃতিচারণমূলক কর্মসূচি পালিত হয়। বক্তারা শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
সাইদুর রহমান লিটল বলেন, “যারা জীবন দিয়েছেন এবং যারা আহত হয়েছেন, তাঁদের আত্মত্যাগ কখনো বৃথা যাবে না। নতুন প্রজন্মকে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত ইতিহাস জানতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো স্বৈরাচার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে।”
তিনি আরও বলেন, “৫ আগস্টের চেতনা ধারণ করেই একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। শহীদদের আত্মত্যাগই আমাদের সেই দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ৪ ও ৫ আগস্ট দেবিদ্বারের ঘটনাবলি বাংলাদেশের গণআন্দোলনের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে এবং শহীদদের আত্মত্যাগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অনুপ্রেরণা জোগাবে।